Writer : Shubhankar Guha
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Literature>Novels & Novellas
- Publication Year : 2021
- ISBN No : 978-81-84371-00-0
- Binding : Paste Board (Hard) with Gel Jacket
- Pages : 304
- Weight : 585 gms
- Height x Width x Depth : 09x06x0.75 Inch
If so, it will be notified
About the Book
বিয়োর : বেদে সাপুড়িয়াদের জীবন বৃত্তান্তমূলক বাস্তবধর্মী উপন্যাস
নবগ্রাম মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত একটি প্রাচীন গ্রাম। এই গ্রামের পূর্বদিকে অনেক বছর আগে একদল বেদে সাপুড়িয়া বসবাস শুরু করে। দলের সর্দার, কিরিটি সাপুড়িয়া। শতাব্দী প্রাচীন এই সর্দার সাপুড়িয়াকে নিয়েই গড়ে উঠেছে উপন্যাসটির আখ্যান। উপন্যাসটি যতই এগিয়েছে, বিস্তার লাভ করেছে সাপুড়িয়াদের জীবনের বহুমাত্রিক শাখা প্রশাখা।
উপন্যাসটিতে যে শব্দটি প্রথমে আমাদের নাড়া দেয়, তা হল ‘বিয়োর’। ‘বিয়োর’ শব্দের অর্থ গর্ত। গর্তকে কেন্দ্র করেই সাপুড়িয়াদের জীবন আবর্তিত। শতাব্দী প্রাচীন কিরিটি সাপুড়িয়া, তার পুত্র কেদার সাপুড়িয়া এবং অন্যান্য সাপুড়িয়াকে সে বলে রেখেছিল, মৃত্যুর পরে তাকে যেন পোড়ানো না হয়। তার অভিলাষ, মৃত্যুর পরেও সে সাপুড়িয়া দলের সাথে এবং বেদেপাড়াতেই থাকতে চায়। সেইজন্য সে তার পুত্র' কেদার সাপুড়িয়াকে নির্দেশ দেয় বেদেপাড়ার উঠোনের মধ্যিখানে একটি গর্ত খনন করে তাকে যেন শুইয়ে দেওয়া হয়। সেই গর্তে প্রাজ্ঞ একটি সাপকেও যেন রেখে দেওয়া হয়। বৃদ্ধ প্রাচীন সাপুড়িয়া এই সাপটিকে 'পয়গম্বর' বলে। বেদে ভাষায় 'বিয়োর' কথার অর্থ গর্ত। আর 'মোশেল বিয়োর' মানে সাপের গর্ত। যে সাপের গর্তে শিক (সাপধরার যন্ত্র) ঢুকিয়ে সে একদিন জীবিকার্জনের উপায় খুঁজে পেয়েছিল, সেই 'মোশেল বিয়োর' অর্থাৎ সাপের গর্তেই সে ফিরে যেতে চেয়েছিল।
কিন্তু একশো বছর প্রাচীন কিরিটি সাপুড়িয়া কি ফিরে যেতে পেরেছিল? 'বিয়োর' প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের এক প্রকৃতি ও গ্রামীণ নিসর্গ নির্ভর আখ্যান। সাপ নামক সরীসৃপ প্রাণীটিকে নিয়ে যাদের বিচরণ, সেই সাপুড়িয়াদের কাছে প্রশ্ন সাপ অদ্ভুৎ, না সাপুড়িয়াই অস্পৃশ্য?
‘বিয়োর’ উপন্যাসটি সাপুড়িয়াদের মাগানতা ধর্ম বিলোপের আখ্যানও। যে কাহিনি কথাকার শুনিয়েছেন শীতল বেদের জীবনালেখের মাধ্যমে। শীতল বেদে বেদিয়া জীবন থেকে মুক্তির আশায় স্ত্রী ফতিমাকে নিয়ে রাতের অন্ধকারে দল ত্যাগ করে। কারণ সে উপলব্ধি করেছিল জীবিকার পরিবর্তন না হলে বেদে সাপুড়িয়াদের সামাজিক উন্নতি সম্ভব নয়। সে নৌকা তৈরির কাজ শেখে এবং দক্ষ কারিগরে পরিণত হয়। ময়ূরাক্ষী ও দামোদর-এর সংযোগস্থলে বসবাস শুরু করে, কিন্তু সেখানেও সে স্থায়ী হতে পারে না। সাপের কামড়ে মৃত ফতিমা প্রবল বন্যায় ভেসে যায়। একই সাথে তার দীর্ঘদিনের লালিত গ্রামীণ গৃহস্থ হওয়ার স্বপ্ন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। স্বপ্ন ভাঙার যন্ত্রণা নিয়ে সে তার নিজের সমাজে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষা করে। কিন্তু বেদেদের নিজস্ব নিয়ম আছে, নিজস্ব সমাজ আছে। কখনো কোনো সদস্য যদি বেদে সমাজ থেকে বেরিয়ে যায় বা সাপ খেলা দেখানো ছাড়া অন্য পেশার সাথে যুক্ত হয় সেক্ষেত্রে সমাজের অনুমতি ছাড়া দলে ফিরে আসতে পারে না। বেদে সাপুড়িয়ারা হিন্দু নয়, মুসলমানও নয়। একই পরিবারে একটি সন্তানের নাম যদি কৃষ্ণ হয়, অন্যটির নাম মকবুল হয়। জ্যেষ্ঠা কন্যার নাম যদি রাধা হয় তবে কনিষ্ঠার নাম ফতিমা হতে পারে। কখনও এরা হরিনাম করে তো কখনও নামাজ পড়ে। সাপ তাদের জীবন দেবতার সমান। সাপুড়িয়ারা সাপ ধরে, সাপের বিষ বিক্রি করে, সাপের খেলা দেখায়। বিভিন্ন তাবিজ কবজ, বিভিন্ন গাছের শেকড় বাকড়, বিভিন্ন রোগ ব্যাধি উপশম করার তেল সাধারণ গ্রামবাসীদের কাছে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে।
বেদে সাপুড়িয়া জীবনের দর্শন, বেদে ভাষা, নিরন্তর বিচরণ, গ্রামে-গ্রামে সাপখেলা দেখিয়ে উপার্জন, সেই প্রাচীনকাল থেকে আজও যাদের অনন্ত যাত্রা শেষ হয়নি, সেইসব বিপন্ন সাপুড়িয়াদের লৌকিক-অলৌকিক, অন্ধবিশ্বাস ও জাদুবাস্তবতায় আচ্ছন্ন অভিনব এক চরিতমালা। 'বিয়োর' শতাব্দী প্রাচীন এক সাপুড়িয়ার দার্শনিক বিশ্বাস।
